চলো মন রূপনগরে
বন্ধুরা, পূর্বে বলেছিলাম কাব্যের মধ্যে ভ্রমণের কথা। কাব্যের মধ্যে ভ্রমণ করেছিলেন তো কৃত্তিবাস ওঝা। এমন ভ্রমণ রসিক বাংলায় খুব কমই পাওয়া যায়। সেই
ফুলিয়াতে আমি অনেকবার গিয়েছি। ১৯৮০ সাল থেকে আমার ফুলিয়া, পুমুলিয়া সেখান থেকে বলাগর সুখরিয়া সবই আমি সাইকেল যোগে ঘুরতাম। বিশেষতঃ ল্যান্ডস্কেপ করার জন্যই বেরোতাম সেই সময়।
এখনো আমাকে এই অঞ্চল গুলি বেশ আকর্ষণ করে। বয়রার ঘাট তত্সংলগ্ন কৃত্তিবাসের জন্মস্থান। ভক্ত হরিদাসের ভজন স্থল দেখার জন্য মাঝে মাঝেই আকুল হয়ে পড়ি।
মহাকবি কৃত্তিবাস যে বটগাছের তলায় রামায়ণ লিখেছিলেন সেটি আজও বর্তমান।
এখানে শ্রীচৈতন্যের পরম ভক্ত, ভক্ত হরিদাস
সাধনা করেন। বয়রার ঘাটে অচৈতন্য ভক্ত হরিদাস ভেসে উঠে ছিলেন। সেই সব পুরনো কথা মনে পড়লে এই স্থানে দাঁড়িয়ে মন শিহরিত হয়।
আমাদের ঘরের কাছেই কৃত্তিবাস। বেশি
দূরদেশ না গিয়ে আমরা এখানেও ভ্রমণ করতে পারি। যে মাটি মহাকবি কৃত্তিবাস, ভক্ত হরিদাস, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের চরণ ধূলিতে পরিপূর্ণ।
স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় নিম্নের স্মৃতিস্তম্ভটি কবি কৃত্তিবাস এর সম্মানার্থে তৈরি করেন।
গঙ্গার ওপারে ত্রিবেণী থেকে নবদ্বীপ পর্যন্ত
ঘুরে বেড়িয়েছেন এক ভ্রমণ পিপাসু-সমরেশ বসু কালকূট নাম নিয়ে । লিখেছেন
চলো মন রূপনগরে, মুক্তবেণীর উজানে, ঘরের কাছে আরশিনগর আরো কত উপন্যাস।
বয়রা, কৃত্তিবাস, আমার কাছে একটি রূপনগর বটে। তাই সময় পেলেই ছুটে আসি এখানে।
-----×-----

